আসল সোনা চেনার উপায়: নকল থেকে হলমার্ক সোনা আলাদা করবেন কীভাবে
প্রকাশের তারিখ: ১২ জুলাই, ২০২৬
সোনা কেনা মানেই বড় অঙ্কের বিনিয়োগ। কিন্তু বাজারে ভেজাল বা নকল সোনার প্রতারণার ঘটনা নতুন কিছু নয় — অনেকেই না বুঝে বেশি দামে কম ক্যারেটের সোনা কিনে ফেলেন। আসল ও হলমার্ক সোনা চেনার কিছু সহজ উপায় জানা থাকলে এই ঝুঁকি অনেকটাই এড়ানো যায়।
আজকের হালনাগাদ দাম দেখে বাজেট ঠিক করতে চাইলে আমাদের লাইভ সোনার দামের পেইজ দেখে নিন কেনার আগে।
হলমার্ক সোনা কী?
হলমার্ক হলো সরকার-অনুমোদিত সংস্থার দেওয়া একটি certification চিহ্ন, যা প্রমাণ করে সোনার ক্যারেট ও বিশুদ্ধতা যাচাই করা হয়েছে। বাংলাদেশে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এই সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত। হলমার্ক করা গহনায় সাধারণত ক্যারেট নম্বর, বিএসটিআই লোগো ও প্রস্তুতকারকের কোড খোদাই করা থাকে।
আসল সোনা চেনার ৭টি উপায়
১. হলমার্ক স্ট্যাম্প পরীক্ষা করুন
গহনার ভেতরের দিকে বা আংটার কাছে ছোট করে খোদাই করা হলমার্ক চিহ্ন খুঁজুন। ম্যাগনিফাইং গ্লাস দিয়ে দেখলে ক্যারেট নম্বর (যেমন ২২K, ৯১৬) স্পষ্ট বোঝা যায়। খোদাই অস্পষ্ট বা অনুপস্থিত থাকলে সতর্ক হোন।
২. চুম্বক পরীক্ষা
আসল সোনা চুম্বকে আকৃষ্ট হয় না। ছোট চুম্বকের কাছে গহনা ধরে দেখুন — যদি টেনে নেয়, তাহলে সেটিতে লোহা বা নিকেলের মতো ধাতু মেশানো থাকতে পারে। তবে এটি প্রাথমিক পরীক্ষা মাত্র, চূড়ান্ত প্রমাণ নয়।
৩. ঘর্ষণ বা ঘষার পরীক্ষা
সাদা সিরামিক প্লেটের উপর গহনা হালকাভাবে ঘষুন। সোনালি রঙের দাগ পড়লে সেটি আসল সোনার লক্ষণ। কালো দাগ পড়লে বুঝতে হবে সেখানে অন্য ধাতুর মিশ্রণ রয়েছে।
৪. ভিনেগার টেস্ট
এক ফোঁটা সাদা ভিনেগার গহনার উপর দিন। আসল সোনার রঙে কোনো পরিবর্তন হবে না। রঙ পরিবর্তন হলে বা কালচে ভাব দেখা দিলে সেটি নকল বা মিশ্র ধাতুর সম্ভাবনা বেশি।
৫. ঘনত্ব বা ভাসমান পরীক্ষা
এক গ্লাস পানিতে গহনা ছেড়ে দিন। খাঁটি সোনা তার উচ্চ ঘনত্বের কারণে দ্রুত ডুবে যায়। যদি এটি পানিতে ভেসে থাকে বা ধীরে ডোবে, তাহলে ভেতরে অন্য ধাতু মেশানো থাকার সম্ভাবনা আছে।
৬. রঙের স্থিরতা লক্ষ করুন
দীর্ঘদিন ব্যবহারের পরও আসল সোনার রঙ অপরিবর্তিত থাকে। নকল সোনা বা সোনার প্রলেপ দেওয়া গহনা কিছুদিনের মধ্যেই রঙ হারিয়ে ফ্যাকাশে বা কালচে হয়ে যায়।
৭. বিশ্বস্ত জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান থেকে যাচাই করে কিনুন
বাসায় করা এই পরীক্ষাগুলো প্রাথমিক ধারণা দেয়, কিন্তু নিশ্চিত ফলাফলের জন্য বাজুস স্বীকৃত জুয়েলার্স থেকে হলমার্ক সার্টিফিকেট সহ রসিদ নিয়ে কেনা সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
কেনার সময় যে বিষয়গুলো অবশ্যই যাচাই করবেন
- হলমার্ক সিল ও ক্যারেট নম্বর স্পষ্টভাবে খোদাই করা আছে কিনা
- বিক্রেতার কাছ থেকে ক্যারেট, ওজন ও মজুরি উল্লেখ করা পাকা রসিদ
- ওজন মাপার সময় নিজের সামনে ডিজিটাল স্কেলে মাপা হচ্ছে কিনা
- প্রতিষ্ঠানের বাজুস সদস্যপদ ও লাইসেন্স
কেনার আগে ভরি বা গ্রাম হিসেবে মোট খরচ জানতে আমাদের ফ্রি সোনা ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারেন।